October 7, 2022
Sunday, 19 June 2022 15:19

নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি \ সরকারী-বেসরকারী ত্রান পৌছেনি আশ্রয়কেন্দ্রসহ আক্রান্তদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি

দৈনিক নবীগঞ্জের ডাক 

টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।  কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার রাত থেকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের ৮/১০টি গ্রাম নতুন করে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তবে রাতের মধ্যে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দু’ দিন ধরে জগন্নাথপুর বাজার সংলগ্ন পাড় ভেঙ্গে ও আমড়াখাই এলাকায় বিবিয়ানা নদীর পানি দ্রুত বেগে প্রবেশ করছে। সৈয়দপুর-ইনাতগঞ্জ সড়কের প্রায় ১কিঃমিঃ জুড়ে রাস্তার উপর হাটু ,কোন জায়গায় কোমর পানি রয়েছে। ঝুকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বান্দের বাজার টু কসবা সড়কের উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে পানি ঢুকছে। কসবা গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষই পানিবন্দি রয়েছেন। কলাগাছের ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা থমকে যাওয়ায় ডাইক এর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত রাত জেগে ডাইকের পাড়ের মানুষ পাহারা দিয়েছেন। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামসহ উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রবিবার (১৯ জুন) সরকারী ভাবে গালিমপুর-মাধবপুর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ১ হাজার কেজি চাল (২০ বস্তা ৫০ কেজি করে) বিতরন করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া উপজেলার আর কোথায়ও সরকারী বা বেসরকারী ভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে বা বন্যার্ত এবং পানিবন্দি পরিবারে সাহায্য দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন প্রাপ্ত সুত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পাড় এলাকায় প্রায় ২/৩ ইঞ্চি পানি কমতে দেখা গেছে। তবে অন্য এলাকায় দ্রুত বাড়ছে পানি। বন্যার সার্বিক পরিস্থিত ভয়াবহ আকার ধারন করতে যাচ্ছে। এ উপজেলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পর্যান্ত পরিমানে ত্রান বা সরকারী সহায়তা পাওয়া যায়নি। গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি দীঘলবাক ইউপির গালিমপুর-মাধবপুর এলাকায় রবিবার সকালে প্রায় ১ শত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ব্যতিত আর কিছুই দেয়া হয়নি। তাও আবার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। উপজেলার দীঘলবাক ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে পানি ঢুকে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদের রাস্তাঘাট। ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ইনাতগঞ্জ বাজারসহ ৩০/৩৫ গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তাছাড়া ইনাতগঞ্জ - সৈয়দপুর সড়কের মোস্তফাপুর থেকে পাঠানহাটি পর্যন্ত রাস্তায় বুক পানি রয়েছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।  বাড়িঘরে উঠেছে পানি। বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নে ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর, সোনাপুর, ফতেহপুর, চৌকি, আমড়াখাই ও চরগাও গ্রামে কমপক্ষে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন। সরকারীভাবে ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। করগাও ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫/৭টি বন্যায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান নির্মলেন্দু দাশ রানা। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দুর্গাপুর প্রাইমারী স্কুলে ৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। শেরপুর নিন্মাঞ্চলের অসংখ পরিবারকে সরিয়ে আনা হয়েছে। উপজেলার হাইস্কুল ও কলেজ গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে গালিমপুর ও মাধবপুর স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। নাদামপুর স্কুল এন্ড কলেজে ৮টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ইনাতগঞ্জ হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় দু’শতাধিক পরিবার। মোস্তফাপুর মাদ্রাসায় ২৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। মতিউর রহমান হাইস্কুলে ১১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। জগন্নাথপুর এসএনপি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, চৌকি প্রাইমারী স্কুল ও বিবিয়ানা স্কুলে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এখন পর্যন্ত সরকারী কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ১নং ইউনিয়নে যাননি। শুধুমাত্র গালিমপুর-মাধবপুর আশ্রয় কেন্দ্র ব্যতিত অন্যান্য আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারী সহায়তা পৌছার খবর পাওয়া যায়নি। নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দার বন্যার্ত পরিবারের সদস্য মিনতা রানী দাশ, বানী রানী দাশ, নৃপেন দাশ, সধন দাশ, পুলই রানী দাশ, রথীন্দ্র দাশ, রতন দাশ (নাদামপুর স্কুলে আশ্রয় নেয়া) জানান, শনিবার বিকালে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তাদের ঘরে ভিতরে হাটু পানি। চেয়ারম্যান-মেম্বার দেখে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাননি। পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে আছেন। জগন্নাথপুর হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সুনীল পুরকাস্থ জানান, ১নং ইউনিয়নে ৮/১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। রাতেই এর পরিমান বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। ওই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গৌতম দাশ জানান, এখন পর্যন্ত সরকারী কোন সহায়তা দেয়াতো দুরের কথা সরকারের দায়িত্বশীল কোন কর্তা দেখেননি। গালিমপুর-মাধবপুর ওয়ার্ডের মেম্বার আকুল মিয়া বলেন, উপজেলা প্রশাসন আজ ( রবিবার) ওই এলাকায় ২০ বস্তায় ১ হাজার কেজি চাল বরাদ্ধ দিয়েছেন। ১ শত পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে কিছুই দেয়া হয়নি। তবে তা দেয়া হয়েছে তা খুবই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইনাতগঞ্জের বাসিন্দা সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা বলেছেন, ইনাতগঞ্জ হাইস্কুল ও প্রাইমারী স্কুলে প্রায় দু শতাধিক বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে সরকারী সহায়তা দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহি উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে রবিবার (১৯ জুন) সকালে জানান, উপজেলার ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২০৫ পরিবার ১ হাজার মানুষের জন্য সাড়ে ৫ হাজার কেজি চাল, দেড় লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫০ হাজার টাকার গো খাদ্যের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সরকারী ভাবে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতি চলছে হাতে আসা মাত্রই প্রদান করা হবে। এদিকে সরকারী ভাবে ২০৫টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করার কথা বললেও বেসরকারী হিসেবে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। অপর দিকে বন্যা কবলিত এলাকার সরকারী প্রাইমারী স্কুল গুলো পাঠদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Login to post comments
  1. LATEST NEWS
  2. Trending
  3. Most Popular